প্রবাসীদের উদ্যোগে সিলেটে হচ্ছে আরেকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র

fgg.jpg

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে বেসরকারী উদ্যোগে আরেকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশীদের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আমেরিকান লিবার্টি পাওয়ার বিডি লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান প্রায় সাড়ে ৪শ’কোটি টাকা ব্যয়ে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করছে। ইতিমধ্যে এ নিয়ে জালালাবাদ গ্যাসের সাথে নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠানের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের পুরো বিনোয়গটা করবেন প্রবাসীরা।

সূত্রে জানা যায়, ফেঞ্চুগঞ্জে দু’টি সরকারী ও ৩টি বেসরকারী বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে এ পর্যন্ত ৪৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হচ্ছে। দেশে বিদ্যুৎ চাহিদার ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে ১৯৯১ সালের তৎকালীন বিএনপি সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর ১৯৯৩-৯৪ সালে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) উদ্যোগে ও জাপানের মেসার্স সুমিটোমা করপোরেশনের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগীতায় ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর তীরে গাড়–লী কোনায় ২৫ একর জমির ওপর গ্যাস ভিত্তিক সিলেট ৯০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। ২০০৬ সালে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ওই কেন্দ্রের পাশে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় চীনের মেসার্স হারবিন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সহযোগীতায় ১০৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরেকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে ওই কেন্দ্র থেকে ৯৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

৬ একর জমির ওপর নির্মিত ৫১ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন দেশের প্রথম বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ভাড়া ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র মেসার্স বারাকা বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু হয় ২০১০ সালের ১০ অক্টোবর। বর্তমানে কেন্দ্রটিতে পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। এনার্জি প্রিমা ৫০ মেগাওয়াট ভাড়া ভিত্তিক ২য় কেন্দ্রটি নির্মাণ করে মেসার্স হোসাফ গ্রুপ। ২০১১ সালের জুন মাস থেকে কেন্দ্রটি থেকে ৪৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। ফেঞ্চুগঞ্জে সর্বশেষ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপিত হয় ২০১২ সালে উপজেলার মইনপুরে। কুশিয়ারা পাওয়ার কোম্পানির উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। স্থানীয় প্রয়াত সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর নিজস্ব ৬ একর জমির ওপর ১হাজার ৪শ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাড়া ভিত্তিক ১৭০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল ইন্ডিপেনডেন্ট বিল্ড ওউন অপার (বিওও) কেন্দ্র নির্মিত হয়। ২৫ বছরের চুক্তি ভিত্তিক এ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে দিতে হবে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে স্থাপিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের লোড সেন্টার সিলেট নগরীর নিকটবর্তী হওয়ায় লো-ভোল্টেজ সমস্যা নিরসন, কারিগরি লস সহ সিলেট অঞ্চলে মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভর যোগ্যতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন নতুন শিল্প কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠার ফলে দেশে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কর্মকান্ড বৃদ্ধি পেয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top

প্রধান সম্পাদক: নজরুল ইসলাম শিপার
সম্পাদক:কামরুল হাসান জুলহাস

বক্স ম্যানশন, ৩য় তলা, বন্দর বাজার, সিলেট-৩১০০।
০১৭২০-৪৪৫৯০৮
news.talashbarta@gmail.com