ঢাবির ছাত্রী হলে বিবাহিত ছাত্রীরাও থাকতে পারবেন

128537.jpeg

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের আবাসিক হলে এখন থেকে বিবাহিত ছাত্রীরাও থাকতে পারবেন।

বুধবার সন্ধ্যায় প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন একাধিক হলের প্রাধ্যক্ষ।

উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের বাসভবনে বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষদের নিয়ে এ সভা চলে রাত পৌনে ৮টা পর্যন্ত।

কবি সুফিয়া কামাল হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক শামিমা বানু বলেন, ‘এতদিন বিবাহিত মেয়েদের হলে থাকার বিষয়ে যে নিয়ম ছিল, সেটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উপাচার্য স্যার সদয় হয়ে সেটি উইথড্র করেছেন। এখন থেকে বিবাহিত মেয়েরা হলে থাকতে চাইলে থাকতে পারবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. এ কে এ গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘ছাত্রীদের আবাসিক হলে বিবাহিত এবং অন্তঃসত্ত্বা শিক্ষার্থীদের থাকার ওপর যে বিধিনিষেধ ছিল সেটি রহিত করা হয়েছে। তবে অন্তঃসত্ত্বা শিক্ষার্থীর মাতৃত্ব ও শিশুর নিরাপদ স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ সময় তাদের পারিবারিক পরিবেশে থাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমীচীন মনে করে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রী হলে বিবাহিতদের সিট বরাদ্দ বাতিলের খবর সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

‘বিবাহিত হওয়ায় হলের সিট হারাচ্ছেন ঢাবি ছাত্রীরা’ শিরোনামে গত ১৫ ডিসেম্বর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এতে বলা হয়, বিবাহিত হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলে এক শিক্ষার্থীর সিট কেটে দিয়েছে হল প্রশাসন। বিবাহিত হওয়ায় আরও কয়েকটি হলেও নারী শিক্ষার্থীদের সিট বাতিল করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের একজন জানান, ১২ নভেম্বর হলের সিট বরাদ্দ কমিটির একজন শিক্ষক বিবাহিত হওয়ায় তার সিট কেটে দেন। ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। তবে তিনি নিজের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।

ঘটনার বিষয়ে ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি সনাতন ধর্মাবলম্বী। করোনার বন্ধে আমার বিয়ে হয়। বন্ধের পর যখন আমি হলে আসি তখন ধর্মের নিয়ম অনুযায়ী স্বামীর মঙ্গল কামনায় শাঁখা-পলা-সিঁদুর পরি।

‘হল খোলার প্রথম দিন বিষয়টি একজন ম্যামের নজরে আসার পর তিনি আমি বিবাহিত কি না জানতে চান। আমি বিবাহিত বললে তিনি আমার নাম মার্ক করে রাখেন। এরপর ১২ নভেম্বর আমার ফ্লোরের ইলা ইসমাইল ম্যাম আমার সিট কেটে দেন। যখন আমার সিট কাটা হয়, তখন পরীক্ষা চলছিল।’

এ ধরনের আরও বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে বিভিন্ন হল থেকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য পাঁচটি আবাসিক হল রয়েছে।

এসব হলের আসন বণ্টন সম্পর্কিত নীতিমালার একটি ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ছাত্রী বিবাহিত হলে অবিলম্বে কর্তৃপক্ষকে জানাবেন। অন্যথায় নিয়মভঙ্গের কারণে তার সিট বাতিল হবে। শুধু বিশেষ ক্ষেত্রে বিবাহিত ছাত্রীকে চলতি সেশনে হলে থেকে অধ্যয়নের সুযোগ দেয়া হবে। অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রী হলে থাকতে পারবেন না।’

এই নিয়মের প্রতিবাদ করে সম্প্রতি উপাচার্যের কাছেও যান বিভিন্ন ছাত্রী হলের শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা। তারা নিয়মটি বাতিল করা ছাড়াও কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন। এগুলো হলো, শিক্ষার্থীদের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের মর্যাদা রক্ষায় সব ছাত্রী হলে ‘লোকাল গার্ডিয়ান’ বা ‘স্থানীয় অভিভাবকের’ পরিবর্তে ‘ইমার্জেন্সি কন্টাক্ট’ বা ‘জরুরি যোগাযোগ’ শব্দটি রাখা, আবাসিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্বারা যেকোনো ধরনের হয়রানি এবং অসহযোগিতামূলক আচরণ বন্ধ করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া এবং শিক্ষা কার্যক্রম চলমান থাকা সাপেক্ষে অনাবাসিক ছাত্রীদের হলে প্রবেশের অধিকার পুনর্বহাল করা ও জরুরি প্রয়োজনে তাদের হলে অবস্থান করতে দেয়া।

অন্যদিকে, অন্তঃসত্ত্বা ও বিবাহিত ছাত্রীদের হলে না থাকার বিধি বাতিল চেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আইনি নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, শামসুন নাহার হল, কুয়েত-মৈত্রী হল ও সুফিয়া কামাল হলের প্রভোস্টের কাছে এ নোটিশ পাঠানো হয়।

নোটিশে বলা হয়, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি ছাত্রী হলে বিবাহিত হওয়ার কারণে কতিপয় ছাত্রীর আবাসিক সিট বাতিল করা হয়েছে। শামসুন নাহার হলের আবাসিক ছাত্রীদের সিট বণ্টন সম্পর্কিত ও অন্যান্য শৃঙ্খলামূলক নিয়মবিধির ১৬ নং বিধিতে বলা হয়েছে, ‘কোনো ছাত্রী বিবাহিত হলে অবিলম্বে কর্তৃপক্ষকে জানাবে। অন্যথায় নিয়ম ভঙ্গের কারণে তার সিট বাতিল হবে। শুধু বিশেষ ক্ষেত্রে, বিবাহিত ছাত্রীকে চলতি সেশনে হলে থেকে অধ্যয়নের সুযোগ দেয়া হবে। অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রী হলে থাকতে পারবে না।’”

নোটিশে আরও বলা হয়, ‘এই বিধানের ফলে কার্যত বিবাহিত শিক্ষার্থীরা হলের আবাসিক সুবিধা গ্রহণ করে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।

‘বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং ২৮ (১) ও (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না। রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার লাভ করবে। বিবাহিত ছাত্রীদের জন্য এমন নিয়ম নারীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পথে প্রতিবন্ধকতা এবং সংবিধানের ২৭ এবং ২৮ নং অনুচ্ছেদের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top

প্রধান সম্পাদক: নজরুল ইসলাম শিপার
সম্পাদক:কামরুল হাসান জুলহাস

বক্স ম্যানশন, ৩য় তলা, বন্দর বাজার, সিলেট-৩১০০।
০১৭২০-৪৪৫৯০৮
news.talashbarta@gmail.com