সংসদে নতুন বাজেট পাস, ১ জুলাই থেকে কার্যকর

121289.jpeg

১ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। পাস হওয়া এ বাজেট রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম দিন (১ জুলাই) থেকে কার্যকর হবে। গত ৩ জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাজেট পেশ করেন ।

বুধবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে নতুন বাজেট পাস হয়। অর্থমন্ত্রীর বাজেট পেশের পর পুরো অধিবেশন জুড়ে এর ওপর আলোচনা করেন সংসদ সদস্যরা। সম্পূরক বাজেটসহ বাজেটের ওপর ছয় দিনে ১৫ ঘণ্টার মতো আলোচনা হয়।

এবারের বাজেটের শিরোনাম- ‘জীবন-জীবিকায় প্রাধান্য, সুদৃঢ় আগামীর পথে বাংলাদেশ’। বাজেটে মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে আয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা এবং এনবিআর বহির্ভূত সূত্র থেকে কর রাজস্ব ধরা হয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। কর বহির্ভূত খাত থেকে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

বাজেটে পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ৬২ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা। শিল্পে, রাষ্টায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকে আর্থিক বিনিয়োগ সহায়তা, ভর্তুকি খাতে ৩৪ হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা, সুদ পরিশোধ বাবত ৬৮ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে পাঁচ হাজার ১০৩ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই লাখ পাঁচ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা।

এছাড়া বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ এক লাখ ৭০ হাজার ৫১০ কোটি টাকা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে এক লাখ ৮৪৭ কোটি টাকা, ভৌত অবকাঠামো খাতে এক লাখ ৭৯ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ভৌত অবকাঠামো খাতের মধ্যে কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৭৪ হাজার ১০২ কোটি টাকা, যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে ৬৯ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে ২৭ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর বাইরে সাধারণ সেবা খাতে এক লাখ ৪৫ হাজার ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বাজেটে সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি দুই লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা, যা জিডিপির ছয় দশমিক দুই শতাংশ। এ ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক সূত্র থেকে এক লাখ এক হাজার ২২৮ কোটি টাকা, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এক লাখ ১৩ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা আহরণ করা হবে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য ব্যাংক বহির্ভূত খাত থেকে ৩৭ হাজার এক কোটি টাকা সংস্থানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা সাত দশমিক ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া বাজেটে মূল্যস্ফীতি পাঁচ দশমিক তিন শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে মোট বাজেটের ১৫ দশমিক সাত শতাংশ, পরিবহন-যোগাযোগ খাতে ১১ দশমিক নয় শতাংশ, সুদ খাতে ১১ দশমিক চার শতাংশ, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে সাত শতাংশ, জনপ্রশাসন খাতে ১৮ দশমিক সাত শতাংশ, প্রতিরক্ষা খাতে ছয় দশমিক দুই, স্বাস্থ্য খাতে পাঁচ দশমিক চার শতাংশ, সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতে পাঁচ দশমিক সাত শতাংশ, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা খাতে চার দশমিক আট শতাংশ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে চার দশমিক পাঁচ শতাংশ, কৃষি খাতে পাঁচ দশমিক তিন শতাংশ, গৃহায়ন খাতে এক দশমিক এক শতাংশ, বিনোদন, সংস্কৃতি ও ধর্ম খাতে দশমিক আট শতাংশ, শিল্প ও অর্থনৈতিক সার্ভিস খাতে দশমিক সাত শতাংশ এবং বিবিধ খাতে দশমিক আট শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বাজেটে বৈশ্বিক মহামারি করোনা (কোভিড-১৯) মোকাবিলার লক্ষ্যে সামাজিক নিরাপত্তা, যোগাযোগ অবকাঠামো, ভৌত অবকাঠামো, আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, কৃষি, মানবসম্পদ উন্নয়নসহ সার্বিক সেবা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

নির্দিষ্টকরণ বিল পাস

আগামী অর্থবছরের বাজেট ব্যয়ের বাইরে সরকারের বিভিন্ন ধরনের সংযুক্ত দায় মিলিয়ে মোট সাত লাখ ৯২ হাজার ৯১২ কোটি ৯৫ লাখ নয় হাজার টাকার নির্দিষ্টকরণ বিল জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে।

এর মধ্যে, সংসদ সদস্যদের ভোটে গৃহীত অর্থের পরিমাণ পাঁচ লাখ ৫৪ হাজার ৩২ কোটি ৭১ লাখ নয় হাজার টাকা এবং সংযুক্ত তহবিলের ওপর দায় দুই লাখ ৩৮ হাজার ৮৮০ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

সংযুক্ত তহবিলের দায়ের মধ্যে ট্রেজারি বিলের দায় পরিশোধ, হাই কোর্টের বিচারপতি ও মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের বেতনও অন্তর্ভুক্ত।

মঞ্জুরি দাবি ও ছাঁটাই প্রস্তাব

আগামী অর্থবছরের বাজেটের ওপর সংসদে উত্থাপিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ৫৯টি মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও বিএনপির ১২ জন সংসদ সদস্য ৬২৫টি বিভিন্ন ধরনের ছাঁটাই প্রস্তাব আনেন।

এর মধ্যে আইন ও বিচার বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের দাবি ও ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। বিরোধী দলের আলোচনার পর সবগুলো প্রস্তাব কণ্ঠভোটে বাতিল হয়ে যায়।

ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো দেন জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ, মুজিবুল হক চুন্নু, ফখরুল ইমাম, পীর ফজলুর রহমান, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, লিয়াকত হোসেন খোকা, রুস্তম আলী ফরাজী, রওশন আরা মান্নান, বিএনপির হারুনুর রশীদ, রুমিন ফারহানা, মোশাররফ হোসেন ও গণফোরামের মোকাব্বির খান।

দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের মঞ্জুরি দাবি সংসদে তোলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top

প্রধান সম্পাদক: নজরুল ইসলাম শিপার
সম্পাদক:কামরুল হাসান জুলহাস

বক্স ম্যানশন, ৩য় তলা, বন্দর বাজার, সিলেট-৩১০০।
০১৭২০-৪৪৫৯০৮
news.talashbarta@gmail.com