ঘুষ না পেয়ে চা শ্রমিকদের তালিকা গ্রহণ করেননি সমাজসেবা কর্মকর্তা!

124596.jpeg

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষের টাকা না পাওয়ায় চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের বরাদ্দের উপকারভোগীদের তালিকা গ্রহণ না করার অভিযোগ ওঠেছে।

এর প্রতিকার চেয়ে জুড়ী উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কাপনা পাহাড় চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির চা শ্রমিকরা।

শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জুড়ী উপজেলা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কাপনা পাহাড় চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি প্রমেশ বাউরী চা শ্রমিকদের উপস্থিতে অভিযোগ করে বলেন, চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে গত কয়েক বছর থেকে সরকার চা শ্রমিকদেরকে এককালীন আর্থিক অনুদান দিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে জুড়ী উপজেলার চা শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ এসেছে। উপজেলার অন্যান্য বাগানের মতো কাপনা পাহাড় চা বাগানের শ্রমিকদের তালিকা চান জুড়ী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাকেশ পাল। সমাজসেবা কর্মকর্তার লিখিত চিঠির ভিত্তিতে ২ হাজার টাকা জমা দিয়ে তালিকার ফরম সংগ্রহ করি। গত কয়েক দিন আগে সমাজসেবা কর্মকর্তা আমাকে জানান, খরচ বাবত ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য। সে টাকা দিতে না পারলে তিনি অনুদান দেবেন না।

কাপনা পাহাড় চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির বর্তমান সভাপতি হিসেবে গত রোববার ৫ সেপ্টেম্বর চা শ্রমিকদেরকে নিয়ে সরকার ঘোষিত প্রশিক্ষণও শেষ করি। গত বৃহস্পতিবার ৯ সেপ্টেম্বর তালিকা নিয়ে সমাজসেবা কর্মকর্তার অফিসে গেলে তিনি টাকার বিষয় জানতে চান। আমি টাকা না দেওয়ায় তিনি তালিকা জমা রাখেন নি। আমি বাগান পঞ্চায়েত কমিটির বর্তমান নির্বাচিত সভাপতি হওয়া সত্ত্বেও আমার তালিকা গ্রহণ না করে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও চা বাগানের ব্যবস্থাপকের মাধ্যমে অন্য একটি তালিকা তৈরি করেন। ঘুষ না দেওয়ায় ২২৪জন চা শ্রমিকের জন্য সরকার ঘোষিত তাদের জীবনমান উন্নয়নের অনুদানের টাকা তিনি অন্যত্র দেওয়ার পায়তারা করছেন।

তবে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চা শ্রমিক সভাপতি প্রমেশ বাউরী জানান, ঘুষ চাওয়ার সময়তো কেউ প্রমাণ রাখার সুযোগ দেয় না।

এসময় চা শ্রমিকদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বজিৎ বাউরী, কমলা বাউরী, যোগেশ নির্মল, লোকনাথ রিকমুন, সবিত্রা বাউরী প্রমুখ।

এ বিষয়ে কাপনা পাহাড় চা বাগান ব্যবস্থাপক কামরুল হাসান বলেন, অবসরজনিত কারণে প্রমেশ বাউরী সভাপতিত্ব করতে পারেনা।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাকেশ পালের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি ঘুষের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এর কোনো প্রমাণ কি তারা দিতে পারবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top

প্রধান সম্পাদক: নজরুল ইসলাম শিপার
সম্পাদক:কামরুল হাসান জুলহাস

বক্স ম্যানশন, ৩য় তলা, বন্দর বাজার, সিলেট-৩১০০।
০১৭২০-৪৪৫৯০৮
news.talashbarta@gmail.com