সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে দুধ দিয়ে গোসল করে সমালোচনায় নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান

dddgf.jpeg

টানা দুইবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর এবার চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই বাজিমাত করেছেন কোম্পানীগঞ্জের আলমগীর হোসেন আলম।

বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

নির্বাচিত হওয়ার পর দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে তাকে বরণ করে নিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। এমন কান্ডে সমালোচনারও সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়।

চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী সাবেক বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন আলমকে বাড়িতে দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে বরণ করে নেন পরিবারের লোকজন। দুধ দিয়ে গোসল করানোর আয়োজনটি ঘরোয়া পরিবেশে সীমাবদ্ধ থাকেনি। গোসলের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

যদিও দুধ দিয়ে গোসলের ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত জানিয়ে এজন্য দুঃখও প্রকাশ করেছেন নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন আলম।

পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে আনারস প্রতীকে ৫ হাজার ২৮১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন তিনি। আলমগীর হোসেন আলম পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নে খায়েরগাঁও গ্রামের মৃত ছিদ্দিকুর রহমান ছেলে। তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য।

এ বিষয়ে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আলমগীর আলম বলেন, ‘আমার চাচির ভাই বাবুল মিয়া ইউনিয়ন পরিষদে গত দুই বারের চেয়ারম্যান ছিলেন। তার পরিষদে দুই মেয়াদে ইউপি সদস্য ছিলাম আমি। এ অবস্থায় গত মেয়াদে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চেয়েছি। কিন্তু চাচির অনুরোধে প্রার্থী হইনি। এবার তিনি না দাঁড়িয়ে আমাকে সুযোগ দেওয়ার কথা ছিল।’ কিন্তু তিনি আমাকে ছাড় দেননি। চাচির ইচ্ছা ছিল আমি পাস করলে দুধ দিয়ে গোসল করাবেন। বাড়ি ফেরার পর তিনি কথা রাখতে গিয়ে সেটি করেছেন। যদিও এটা করা উচিত হয়নি। কেননা, দুধ আল্লাহর নেয়ামত, মানুষের পান করার জন্য। ’

তিনি বলেন, এই গোসলের ছবি ফেসবুকে দিয়েছিলাম। এতে অনেকে বিরূপ মন্তব্য করছেন। তাই ভিডিওটি আমি ফেসবুক থেকে সরিয়ে নিয়েছি। এমন কান্ডের জন্য আমি এলাকার মানুষের কাছে লজ্জিত এবং ক্ষমা প্রার্থী।

তিনি বলেন, আগে আমি বিএনপি করতাম। দলীয় অনুষ্ঠানে যেতাম। এখন কোনো দল করি না। তাই স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলাম।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউপির মধ্যে ইসলামপূর পূর্ব ইউনিয়নে সাবেক বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র আলমগীর হোসেন আলম আনারস প্রতীকে ৫ হাজার ২৮১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অটোরিকশা প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল হক ৩ হাজার ৭ ভোট পেয়েছেন। আর নৌকার প্রার্থী ২ হাজার ৬১ ভোট পেয়ে ভোটের হিসাবে ৫ নম্বরে রয়েছেন।

এছাড়া মোটরসাইকেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইলিয়াসুর রহমান ৩ হাজার ৮৭৯ ভোট, ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া ২ হাজার ৭৩৪ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ইমতিয়াজ উদ্দিন হাতপাখা প্রতীকে ১৮১ ভোট পেয়েছেন। ইউনিয়নে মোট ২৩ হাজার ২৫৬ ভোটের মধ্যে প্রদত্ত ভোট ১৭ হাজার ৫৩৩টি। জামানত বাঁচাতে প্রয়োজন ২ হাজার ১৯১ ভোট। সে হিসেবে ৩ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top

প্রধান সম্পাদক: নজরুল ইসলাম শিপার
সম্পাদক:কামরুল হাসান জুলহাস

বক্স ম্যানশন, ৩য় তলা, বন্দর বাজার, সিলেট-৩১০০।
০১৭২০-৪৪৫৯০৮
news.talashbarta@gmail.com