সিলেটে নির্বাচনে নতুনের জয়ধ্বনি!

314335.jpeg

নির্বাচনের ডামাডোল চলছে সিলেটে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে বাজছে পরিবর্তনের সুর। দেশে প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচনে সিলেটের কোনো ইউনিয়ন ছিল না। দ্বিতীয় ধাপে এ জেলার ১৫টি ইউনিয়নে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। গত ১১ নভেম্বর হওয়া এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ১০টি ইউনিয়নে নতুন মুখের দেখা মিলেছে। সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যানদের হারিয়ে এবার তারা নির্বাচিত হয়েছেন। কেউ কেউ আবার পুরনো চেয়ারম্যানরা নির্বাচন না করার সুবাদে জয়ী হয়েছেন।

সিলেটের সদর উপজেলার ৪টি, কোম্পানীগঞ্জের ৫টি ও বালাগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এ ১৫ ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগের ৬ প্রার্থী, স্বতন্ত্র থেকে বিএনপির ৫ নেতা, স্বতন্ত্র আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী নেতা, খেলাফত মজলিসের ১ প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র থেকে জামায়াতের ১ নেতা বিজয়ী হয়েছেন।

ফলাফল অনুসারে, এবার ১০টি ইউনিয়নেই চেয়ারম্যান পদে নতুন মুখ এসেছেন। তন্মধ্যে বিদায়ী চেয়ারম্যানদের হারিয়ে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান হয়েছেন ৮ জন। আর দুটি ইউনিয়নে পুরনো চেয়ারম্যানরা এবার আর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেননি।

এর বাইরে বাকি ৫টি ইউনিয়নে আগেরবার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিরাই এবারও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট সদর উপজেলার মোগলগাঁও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিরণ মিয়া চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। আগেরবারও তিনি এ পদে ছিলেন।

কান্দিগাঁও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নিজাম উদ্দিনকে হারিয়ে চেয়ারম্যান হয়েছেন জামায়াত নেতা আবদুল মনাফ। নিজাম উদ্দিন আগেরবার চেয়ারম্যান হয়েছিলেন।

গত নির্বাচনে জালালাবাদ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মনফর আলী। পরবর্তীতে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। তিনি পদ থেকে বরখাস্ত হন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান ইউপি সদস্য মানিক মিয়া। এবারের নির্বাচনে মানিক মিয়া আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে দলটির প্রার্থী ওবায়দুল্লাহ ইসহাকের কাছে হেরেছেন তিনি।

হাটখোলা ইউপিতে খেলাফত মজলিস নেতা মাওলানা রফিকুজ্জামান বিজয়ী হয়েছেন। এ ইউনিয়নে বিএনপি নেতা আজির উদ্দিন আগেরবার চেয়ারম্যান ছিলেন। তবে এবার তিনি নির্বাচন করেননি।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইসলামপূর পূর্ব ইউনিয়নে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বিদায়ী চেয়ারম্যান মোহাম্মদ বাবুল মিয়াকে হারিয়েছেন।

তেলিখালে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন আবদুল ওয়াদুদ আলফু। আগের মেয়াদের এই চেয়ারম্যান এবারও বিজয়ী হয়েছেন।

ইছাকলস ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ছিলেন মোহাম্মদ কুটি মিয়া। এবারের নির্বাচনে তাকে হারিয়েছেন বিএনপি নেতা সাজ্জাদুর রহমান।

উত্তর রণিখাইয়ে আওয়ামী লীগের ফয়জুর রহমান নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এ ইউনিয়নে বিদায়ী চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন এবার আর পেরে ওঠেননি।

দক্ষিণ রণিখাইয়ে আওয়ামী লীগের ইকবাল হোসেন ইমাদ বিজয়ী হয়েছেন। বিদায়ী চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান রুকন এবার নির্বাচনী মাঠে ছিলেন না।

সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নে বিএনপি নেতা মো. আব্দুল মুনিম পুনরায় চেয়ারম্যান বিজয়ী হয়েছেন।

পূর্ব গৌরীপুরে আওয়ামী লীগের হিমাংশু দাসকে হারিয়ে চেয়ারম্যান হয়েছেন বিএনপি নেতা মুজিবুর রহমান মুজিব। হিমাংশু দাস এ ইউনিয়নের আগের মেয়াদের চেয়ারম্যান।

পশ্চিম গৌরিপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আবদুর রহমান মাখন জয় ঘরে তুলেছেন। তিনি হারিয়েছেন আগেরবারের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী আমিরুল ইসলাম মধুকে।

বোয়ালজোড় ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের আনহার মিয়া ফের বিজয়ী হয়েছেন।

দেওয়ানবাজারে বিএনপির নাজমুল আলম পুনরায় বিজয়োল্লাস করেছেন।

পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে গত নির্বাচনে চেয়ারম্যান হন আব্দুল মতিন। এবার দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় শিহাব উদ্দিনকে। নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হন মতিন। তবে তাকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন শিহাব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top

প্রধান সম্পাদক: নজরুল ইসলাম শিপার
সম্পাদক:কামরুল হাসান জুলহাস

বক্স ম্যানশন, ৩য় তলা, বন্দর বাজার, সিলেট-৩১০০।
০১৭২০-৪৪৫৯০৮
news.talashbarta@gmail.com